রূপচর্চায় বেসন

রূপচর্চায় বেসন

ত্বকের যত্নে বেসনের ব্যবহার বহু পুরোনোকাল থেকেই হয়ে আসছে। কারণ, বেসন ত্বকের যত্নে বেশ কার্যকরী ভুমিকা রাখে। নিয়মিত বেসনের সঙ্গে যদি কিছু উপাদান মিশিয়ে স্ক্রাব হিসাবে শরীরে বা ত্বকে ব্যবহার করা যায় তাহলে খুব কম সময়েই তার ফলাফল পাওয়া যায়।

হারমনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা জানালেন, ত্বককে লাবণ্যময় ও প্রাণবন্ত করে তুলতে বেসন উপকারী। বয়সের ছাপ কমাতে, ত্বক পরিষ্কার করতে, ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে এবং তেলের প্রকোপ কমাতে মসুর ডালের বেসন কাজে লাগানো যায় বলে জানা গেল। জানা গেল বেসনের আরও নানাবিধ ব্যবহার।চলুন জেনে নিই বেসনের সঙ্গে কী কী মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করা যায়-


ফেসওয়াশের পরিবর্তে

১ টেবিল চামচ বেসন পেস্টের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ দুধ, সামান্য হলুদ এবং ৩ ফোঁটা নারকেল তেল মিশিয়ে নিয়ে ফেসওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন প্রতিদিন, একটি বেলায়।


বেসন এবং হলুদ
২ টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া এবং টক দই ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। গোসলের আগে সারা গায়ে মেখে নিন এই মিশ্রণ। তারপর কিছুক্ষণ রেখে উষ্ণ গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের লাবণ্যতা বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।


বেসন এবং মধুর
২ টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু এবং লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে নিন। গোসলের আগে সারা গায়ে মেখে নিন এই মিশ্রণ। কিছুক্ষণ রেখে উষ্ণ গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। জেল্লা ফিরবে ত্বকে। স্পর্শকাতর ত্বক হলে মুখে মাখার প্রয়োজন নেই।


বেসন এবং শসা
অর্ধেক শসা ভালো করে ব্লেন্ডারে পেস্ট করে নিন। এর সঙ্গে মিশিয়ে নিন ২ টেবিল চামচ বেসন। মুখে, হাতে, চাইলে গোটা শরীরেও মাখতে পারেন এই মিশ্রণ। গোসলের কিছুক্ষণ আগে মেখে ২০ পর মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

বেসন এবং লেবুর রস
২ টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে ১ চা চামচ লেবুর রস এবং ১ চা চামচ দই ভালো করে মিশিয়ে নিন। এতে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে দিতে পারেন। প্যাকটি আপনার মুখ, ঘাড় ও হাত-পায়ে ব্যবহার করতে পারেন। প্যাকটি ত্বকে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।


বেসন এবং জলপাইয়ের তেল
১ চামচ চা বেসন, ১ চা চামচ জলপাইয়ের তেল, ৩ ফোঁটা লেবুর রস এবং ১ চা চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণ পুরো মুখে ব্যবহার করে ৫ মিনিট স্ক্রাব করে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকের সমস্যা থাকবে না।


বেসন এবং মেথির গুঁড়া
সমপরিমাণ বেসন ও মেথি গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য পানি বা গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। ত্বকের যেসব স্থানে অবাঞ্ছিত লোম আছে সেখানে এ মিশ্রণটি ব্যবহার করে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর আঙুল দিয়ে ওই স্থানে একটু ঘষে নিলেই লোম উঠে যাবে।


ফেস মাস্ক তৈরি

বেসনের সঙ্গে সমপরিমাণ গাঁদা ফুল মিশিয়ে ভালো করে বেটে নিন। মুখে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের শুষ্কতা কমাতে ও নরম করতে এই মাস্ক কাজে লাগবে। ব্রণের প্রকোপও কমবে। সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করুন।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

রূপচর্চায় চন্দন