ওজন নিয়ন্ত্রণে চিয়া সিড

ওজন নিয়ন্ত্রণে চিয়া সিড

চিয়া সিড কি

স্যালিভা হিসপানিকা নামের এক জাতের পুদিনাগোত্রীয় ফুলগাছের বীজ হল চিয়া সিড। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাস্থ্যপ্রেমীদের মধ্যে এই বীজের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। একে ডাকা হচ্ছে সুপার ফুড নামে। অনেকেই মনে করেন চিয়া সিড ওজন কমাতে দারুণ কার্যকরী। আজ আমরা জানার চেষ্টা করবো আসলেই চিয়া সিডে ওজন কমে কিনা। সেই সঙ্গে চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ ও কীভাবে খাওয়া যায় সেগুলোও জানা যাবে।

চিয়া বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।চিয়া বীজ শরীরের চর্বি দূর করতে সাহায্য করে এবং লেবু শরীরকে ডিটক্সিফাই করে।চিয়া বীজ শরীরের মেটাবলিক রেট বাড়াতে সাহায্য করে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে লেবুও চর্বি কাটার যন্ত্রের মতো কাজ করে, দুটোই একসঙ্গে খেলে ওজন কমানো যায়।


ওজন কমানোর গুণাবলী ছাড়াও প্রতি আউন্স চিয়া সিডে আছে-

  • ১৭৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম
  • ৯৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম
  • ২.১৯ মিলিগ্রাম লোহা ও ১১৫ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম
  • এছাড়াও এতে নানারকম অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে যা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। ওমেগা-৩ ডিপ্রেশন কমানো, ছোটবেলার অ্যালার্জিসহ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় বলেও ধারণা করা হয়। এবিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা হলেও তবে নিশ্চিত করে বলা যাবে

চিয়া সিডের স্বাস্থ্যগুণ

১।  চিয়া বীজ ওজন কমাতে সহায়তা করে।

২। চিয়া সীড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে

৩।এটা শক্তি এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে

৪। চিয়া সিড ব্লাড সুগার (রক্তের চিনি) স্বাভাবিক রাখে, ফলে ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমায়

৫। চিয়া বীজ হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ উপকারি

৬। চিয়া সিড মলাশয় (colon) পরিষ্কার রাখে ফলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

৭। চিয়া সিড শরীর থেকে টক্সিন (বিষাক্ত পদার্থ) বের করে দেয়

৮। চিয়া সীড প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করে

৯। চিয়া সীড ভাল ঘুম হতে সাহায্য করে

১০। চিয়া বীজ ক্যান্সার রোধ করে

১১। চিয়া সিড হজমে সহায়তা করে

১২। চিয়া বীজ হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা দূর করে

১৩। চিয়া সিড ত্বক, চুল ও নখ সুন্দর রাখে


 চিয়াসিড খাওয়ার নিয়ম
শুধু যেমন খাওয়া যায় তেমনি অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায় এই বীজ। তবে দিনে এক আউন্স পর্যন্ত খাওয়াই ভালো।

  • সকালে স্মুদি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে এক চা চামচ চিয়া সিড যোগ করতে পারেন
  • সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়
  • গুড়া করে ময়দা বানিয়ে অন্য খাবারের (ময়দা, আটা বা বেসনের তৈরি) সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়
  • বিশ মিনিট থেকে আধঘন্টা ভিজিয়ে রেখে খাওয়া যায়। ভেজানো চিয়া সিড শুধু খেতে না পারলে সঙ্গে লেবুর রস, মধু বা ফলের রসের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন
  • এছাড়াও দুধ, দই, ওটমিল, কর্নফ্লেক্স বা মিউজলির সঙ্গেও মিশিয়ে খেতে পারেন চিয়া সিড

সর্তকতা 
চিয়া সিডকে মোটামুটি নিরাপদ খাবারই বলা যায়। এর তেমন কোন সাইড এফেক্ট নাই বললেই চলে। তবে যারা রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ গ্রহণ করছেন তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাবেন না। আবার অতিরিক্ত আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় পরিমাণে বেশি খেলে এটি গ্যাসজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।রক্তচাপ এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখলেও চিয়া সিডের রক্ত পাতলা করার গুণ কিছু ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এটি সহজেই রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায় অনেকসময়। কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জিও দেখা দিতে পারে যা খুব একটা কমন নয় অবশ্য।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

রূপচর্চায় চন্দন