সবচেয়ে পুষ্টিকর ও সহজলভ্য খাবারের লিস্টের প্রথমেই রয়েছে ডিম। এটা খেতে ভালোবাসে না এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই হাতেগোনা। এখন বাজারে নানা রকম ডিম পাওয়া যায়। পুষ্টিগুণে সবই কি এক, না কি ফারাক আছে?
সিদ্ধ হোক কি ওমলেট, সব ডিম খুবই সুস্বাদু। কিন্তু শুধু স্বাদ নয়, এবার থেকে ডিম খান উপকারীতার যথার্থতা জেনে।
ওমলেট ও সিদ্ধ ডিমের পুষ্টিগুণ
একটা গোটা সেদ্ধ ডিমে রয়েছে ৭৮ ক্যালরি, ৬.৩ গ্রাম প্রোটিন, ০.৬ গ্রাম কার্বহাইড্রেট ও ৫.৩ গ্রাম ফ্যাট। যার মধ্যে ১.৬ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট। চিকিৎসকদের কথায় ডিমে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। ব্রেকফাস্টে একটা সিদ্ধ ডিম খেলে ৬ গ্রামের বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়।
আর ওমলেটে রয়েছে ৯০ ক্যালরি, ৬.৮ গ্রাম ফ্যাট। স্যাচুরে়টেড ফ্যাটের পরিমাণ ২ গ্রাম।
যেভাবে ডিম খেলে ভালো
ডিমের পুষ্টিগুণ সর্বাধিক পাওয়ার জন্য অমলেট নয়, সিদ্ধ ডিম বা পোচ হল আদর্শ। কারণ, অধিক তাপমাত্রায় ডিমের প্রোটিন ও ভিটামিনগুলি নষ্ট হতে থাকে। এ ছাড়া, অমলেট মানে তাতে যোগ হয় অতিরিক্ত তেল যা সর্বোপরি ক্যালোরি ভ্যালু বাড়িয়ে দেয়।
সিদ্ধ ডিমে মনোস্যাচুরেটেড ও পলিস্যাচুরেটেড চর্বি আছে। এগুলো শরীরের ফ্যাটকে সরিয়ে দেয়। রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে। তাছাড়া এই চর্বিগুলো ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তের চিনির পরিমাণ আয়ত্তে রাখে। এতে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই চর্বিগুলো খুবই উপকারী। সিদ্ধ ডিমে সাদা অংশটি বেশি উপকারী। সাদা অংশে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে। এছাড়া যাদের ব্লাডপ্রেশারের সমস্যা তাদের জন্য সিদ্ধ ডিমই খুব উপকারী। সিদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন ডি, যা হাড় ও দাঁতকে শক্ত করে।
হলুদ কুসুম না কি ছাই কুসুম
হলুদ বা লালচে হলুদ ডিমের কুসুম মানেই পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। আর ছাই রঙের কুসুমে পুষ্টিগুণ নেই এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। পোল্ট্রির মুরগি বেশিভাগ সময়তেই কৃত্রিম খাবার গ্রহণ করে থাকে, তাই এর ডিমের কুসুমের বর্ণ ছাই বা হালকা হলুদ হয় এবং প্রোটিনের তুলনায় ফ্যাটের মাত্রাও বেশ বেশি। অপরদিকে দিশি মুরগি সর্বদাই প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ার ফলে এতে প্রোটিন বেশি ও ফ্যাট কম পোল্ট্রির তুলনায়, এবং এর কুসুমের রং লালচে হলুদ রঙের হয়।
ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যায়
এই নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে আজও মতপার্থক্য আছে। তবে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন গবেষণায় ডায়াবেটিক বা হার্টের অসুখে ডিমের সাদা অংশ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলেই বলা হয়েছে। তবে ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল, সোডিয়াম, পটাশিয়াম-সহ বেশ কিছু মিনারেলস অধিক পরিমাণে থাকায় সপ্তাহে তিন দিনের বেশি ডিমের কুসুম খাওয়া উচিত নয়।
