অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ত্বকের নিয়মিত যত্নে তেলটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নানান ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এই তেল আমাদের মুখে বয়সের ছাপ দূর করতেও কাজ করে।
পৃথিবী জুড়ে জলপাইয়ের তেলের ব্যবহার দেখা যায়। এতে আছে প্রাকৃতিক উপাদান যা শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জলপাইয়ের তেল বা অলিভ অয়েলের গুণাগুণ সম্পর্কে এখানে জানানো হল।
চুলের বৃদ্ধিতে
জলপাইয়ের তেল ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো উপায় হল চুলের গোড়ায় মালিশ করা। এতে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় ফলে চুল সুন্দর হয়।অন্যান্য তেল যেমন কাঠ-বাদামের তেল, কর্পূর, ক্যাস্টর তেল ইত্যাদির সঙ্গে জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করতে পারেন। এটা চুলের বৃদ্ধির পাশাপাশি চুলকে মসৃণ, উজ্জ্বল ও কালো করতে সহায়তা করে।
ত্বক পরিষ্কার রাখতে
প্রতিনিয়তই আমাদের ত্বককে পরিষ্কার রাখতে হয়। অলিভ ওয়েল সেই নিয়মিত কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মুখ থেকে মেকআপ বা সানস্ক্রিন ক্রিম তোলার ক্ষেত্রে তেলটি কাজে দেবে। মেকআপ তোলার জন্য বিভিন্ন সামগ্রী বাজারে পাওয়া গেলেও, এগুলোতে মুখের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু অলিভ ওয়েল সরাসরি বা প্যাডে মেখে মুখে লাগালে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।
ডায়াবেটিস দূর করে
অনেক গবেষণা থেকেই জানা গেছে যে, জলপাই তেল রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। রান্নায় এর ব্যবহার ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে।
হাড় শক্ত করে
হাড় শক্ত করতেও জলপাইয়ের তেল কাজ করে। এই তেল খাওয়া হলে উচ্চ মাত্রায় অস্টিওক্যালসিন শরীরে প্রবেশ করে যা হাড় শক্ত করতে সহায়তা করে।
ওজন কমানো
ওজন কমানো সহজ কাজ নয়। তবে প্রতিদিনকার রান্নার তেলের বদলে যদি জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করা হয় তাহলে দ্রুত ওজন হ্রাস পায়। পছন্দের খাবার জলপাইয়ের তেল দিয়ে রান্না করুন অথবা সালাদের উপরে ছড়িয় দিন; ওজন কমতে সহায়তা করবে।
বিষণ্নতা কমায়
জলপাইয়ের তেলে আছে হতাশানাশক উপাদান। এটা সেরোটোনিন নামক হরমোন বাড়ায় ফলে হতাশা কমে।
খাঁটি অলিভ অয়েল
এটা পরিশোধিত ও ভার্জিন অলিভ অয়েলের সংমিশ্রণ। এটা রান্না বা খাওয়ার জন্য উপযোগী নয়। কারণ এটা উচ্চ অ্যাসিডিক উপাদান সমৃদ্ধ।
স্তন ক্যান্সার দূর করে
নানান গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা জলপাইয়ের তেল গ্রহণ করেন তাদের অন্যান্যদের তুলনায় স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কম। এই তেলে ’অলেরোপিয়ান’ নামক প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা ক্যান্সার রোধে সহায়তা করে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
জলপাইয়ের তেল খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
ব্যথা নাশক
এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যথা নাশক হিসেবে পরিচিত। এতে অলিওক্যান্থাল আছে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
