জবা ফুলের চায়ের গুণ ও তৈরির পদ্ধতি

 

জবা ফুলের চায়ের গুণ ও তৈরির পদ্ধতি

জবা ফুলে এমনিতেই বেশ কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে। শুধু সোন্দর্য বৃদ্ধিতে এই ফুলের ব্যবহার রয়েছে, তা কিন্তু মোটেও নয়। জবা ফুলের চা-ও কিন্তু অসাধারণ একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ছাড়া স্বাস্থ্যের পাশাপাশি রূপচর্চায়ও সমান উপকারী এই জবা ফুলের চা।  সৌন্দর্য্যের জন্য বহুল পরিচিত হলেও জবা ফুল ভেষজ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। জবা ফুলের চা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা থেকে অনাক্রম্যতার জন্য গরম-ঠান্ডা দুইভাবেই পান করা হয়ে থাকে। উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উদ্ভূত হলেও এখন অনেক গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলেও এই চা এর জনপ্রিয়তা আছে। জবা ফুলের লাল বা গভীর ম্যাজেন্টা রঙের বৃন্ত থেকে তৈরি করা হয় টক স্বাদযুক্ত এই চা

জবা চায়ের কি কি উপকারিতা আছে তা জানলে হয়তো কেউই এটা মিস করতে চাইবেন না। 

জবা ফুলের চায়ের গুণাগুণ

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে
সম্প্রতি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশ করা এক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, এই বিশেষ চায়ে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ নিমেষে রক্তচাপকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই জবা ফুলের চা খেতে পারেন যারা আজকাল অফিসে কাজের চাপ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা থেকে রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন।


কোলেস্টেরল কমায়
রক্তচাপ বাড়লে এবং খাওয়া দাওয়া নিয়মমতো না হলেই বাড়ে কোলেস্টেরল। সেখান থেকে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও বাড়ে। জবার চা হার্টে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। কোলেস্টেরলও জমতে দেয় না। এছাড়া ব্রেন ও হার্টের কোনও রকম ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় জবা ফুলের চা।


মানসিক অবসাদ কমায়
নানা কারণে মনটা খারাপ হলে ঝটপট এক কাপ জবার চা বানিয়ে পান করুন। এমনটা করলে দেখবেন মুড একেবারে ফ্রেশ হয়ে যাবে। কারণ, এতে উপস্থিত উপকারী ভিটামিন এবং মিনারেল স্নায়ুতন্ত্রে তৈরি হওয়া প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি অ্যাংজাইটি কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।


পিরিয়ডের সমস্যা সমাধানে
মেয়েদের বিশেষ সময়ে যদি নিয়মিত জবা ফুল দিয়ে বানানো চা খাওয়া যায়, তাহলে পিরিয়ড ক্র্যাম্প এবং যন্ত্রণা অনেকটাই কমে। সেই সঙ্গে অন্যান্য অস্বস্তিও দূর হয়। প্রসঙ্গত, হরমোনাল ইমব্যালেন্স কমাতেও এই পানীয়টি দারুন কাজে আসে। তাই মেয়েরা যদি প্রতিদিন এই চা পান করতে পারেন, তাহলে দারুন উপকার মেলে।


ওজন কমায়

নিয়মিত জবার চা খেলে শরীরে শর্করা এবং স্টার্চের শোষণ কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমতে শুরু করে। জবা ফুলের চায়ে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরে অ্যামিলেস নামক একটি উপাদানের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।


উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

এই পানীয় উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের এবং হালকা উচ্চ রক্তচাপযুক্ত ব্যক্তিদের রক্তচাপ কমিয়ে দেয়। সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক উভয় রক্তচাপকেই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করণে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে জবা ফুলের চা।


হজমে সহায়তা

মূত্রবর্ধন প্রয়োজনীয় পানি ও লবণকে দেহে রাখতে সহায়তা করে যেগুলো প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে বেড়িয়ে যায়। এই চা প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও এটি মূলত চিনি ও ক্যাফেইন-মুক্ত পানীয় পান করার একটি ভালো মাধ্যম, যেটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে। ফলশ্রুতিতে, শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির উপস্থিতি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে হজমে সহায়তা করে।


জবা ফুলের চা বানানোর পদ্ধতি

টক স্বাদযুক্ত হলেও জবা ফুলের চা কে সুস্বাদু পানীয়তে পরিণত করা যায় এবং এই চা বানানোর যাবতীয় প্রস্তুতি বাড়িতেই নেয়া সহজ। চায়ের জন্য নির্ধারিত মগটিতে ভালো ভাবে পিষে নেয়া জবা ফুলের কিছু বৃন্ত রাখতে হবে। অতঃপর তাতে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দিতে হবে। এই সহজ মিশ্রণটি পাঁচ মিনিটের জন্য রেখে দেয়ার পর ছেঁকে নিলেই একদম সাধারণ মানের জবা ফুলের চা তৈরি হয়ে যাবে।

তবে ফুলের টক স্বাদে পরিবর্তন আনতে গরম পানি যুক্ত করার আগে অথবা পরে প্রয়োজন মত মধু ও লেবুর রস দেয়া যেতে পারে। এতে টক স্বাধের ভারসাম্য বজায় থাকবে আবার স্বাদ মিষ্টিও হয়ে যাবে। এছাড়াও সাধারণ রঙ চায়ের মত ছোট ছোট আদার টুকরাও যোগ করা যেতে পারে।

এটি ঠান্ডা-গরম উভয় অবস্থাতেই পান করা যায়। তৈরি চা ঠান্ডা হলে ফ্রিজে দুই দিন রেখে দিলেই দারুণ একটি আইস টি হয়ে যায়। তাছাড়া সদ্য বানানো চা ঠান্ডা করার পর কিছু বরফ কুঁচি যোগ করেও ঠান্ডা চায়ের ফ্লেভার নেয়া যায়।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

রূপচর্চায় চন্দন