ত্বকে র্যাশ কেন হয়?
ভিন্ন কারণে আমাদের ত্বকে র্যাশ হতে দেখা যায়। কিছু র্যাশ নিয়ে চিন্তার কারণ না থাকলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে র্যাশের চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়ে। র্যাশ হলে সাধারণত আঁচের মতো হয়, ঘামাচির মতো হয়, অনেক সময় চর্বিযুক্ত (ফ্যাটি) টিস্যু ধরনের হয়। যেমন, সিস্ট, ফ্যাটি টিস্যু বা বিনাইন, ত্বকের অনেক ধরনের অসুখের কারণেও র্যাশ হতে পারে। এ ছাড়া ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াল র্যাশ, এলার্জিক র্যাশ, অটো ইমিউন র্যাশ হতে পারে। এই সমস্যা ছোটদের থেকে বড়দের সবারই হতে পারে।
ত্বকে র্যাশ হলে করণীয়
অলিভ ওয়েল- অলিভ অয়েলে রয়েছে উচ্চমানের ভিটামিন ই, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের বৈশিষ্ট্য। ত্বককে মসৃণ করতে ও প্রদাহ বা চুলকানির মতো সমস্যা তৈরি হলে তা দ্রুত নিরাময় হয়। সামান্য পরিমাণ অলিভ অয়েল হাতে নিয়ে ত্বকের উপর সামান্য ঘষলে দারুণ উপকার মেলে। টানা দু-সপ্তাহ ধরে কয়েক মিনিটের এই কাজ করুন, পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। এছাড়া অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ মধু বা হলুদ গুঁড়ো দিলে ইনফেকশন থেকে মুক্তি পাবেন দ্রুত। এছাড়া ত্বকে চুলকানি, জ্বালাভাব, র্যাশেস দূর করতে এই ঘরোয়ো টোটকা বিশেষ কার্যকরী।
বেকিং সোডা- ঘরোয়া উপায় হিসেবে বেকিং সোডা দারুণ কাজে দেয়। শুষ্ক ত্বকের র্যাশেস বের হলে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ত্বকের ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে, দ্রুত তা নির্মূল করতে বেকিং সোডা হল মোক্ষম দাওয়াই। বেকিং সোডার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা নারকেলের তেল মিশিয়ে একটি উত্কৃষ্ট প্যাক বানিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারে। নরম ও র্যাশমুক্ত ত্বকের জন্য এই প্যাক খুবই উপকারী।
ওটমিল- স্কিন র্যাশেসকে জব্দ করতে আরও একটি টোটকা হল ওটমিল। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ফ্লেমেটরির বৈশিষ্ট্য়। এগজিমা, চিকেন পক্স, পয়েজন আইভি, সানবার্ণ ও অ্যালার্জির মতো সমস্যাগুলির জন্য দুরন্ত টোটকা হল ওটমিল। এক কাপ ওটমিল গ্রিন্ড করে নিন, এলার গ্রিন্ড করা টমিল আপনার স্নানের জলে প্রায় ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। যদি আপনার মুখের ত্বকে র্যাশেস বেশি বের হয়ে থাকে, তাহলে সমপরিমাণ ওটমিল ও দই মিশিয়ে মুখের ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন অংশে, যেখানে যেখানে র্যাশেস বের হয়েছে, সেই জায়গাগুলিতে ব্যবহার করতে পারেন। ৫ মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
অ্যালোভেরা- এতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ইনফ্লেমাটরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ত্বকের যে কোনও সমস্যার জন্য প্রাকৃতিক ঔষধি হিসেবে অ্যালোভেরা গুণের অন্ত নেই। র্যাশ, সংক্রমণের থকে রক্ষা পেতে ও সুস্থ ত্বক গঠনের জন্য নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যেতে পারে। রোজকার ত্বক পরিচর্চায় সামান্য পরিমাণে অ্যালোভেরার জেল ব্যবহারে মসৃণ, দাগহীন ও র্যাশমুক্ত ত্বক পেতে পারেন আপনি।
• ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করে কোল্ড প্রেসড নারকেল তেল মেখে নিন
• চন্দনের প্যাক ব্যবহারেও উপকার পাওয়া যায়
• ইনফেকশন কমাতে নিমপাতা বাটা ব্যবহার করুন
• নানা সমস্যা দূর করতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু-আমলকী নিয়মিত খান
• ত্বকে যদি প্রায়ই এমন হয় ডাক্তারকে দেখিয়ে হয়ে নিন।
