আখরোট কেন খাওয়া উচিৎ

আখরোট কেন খাওয়া উচিৎ

হৃৎপিণ্ডের মতো দেখতে এক প্রকার বাদাম জাতীয় ফল আখরোট।একটি শক্ত খোলসের ভেতরে আবৃত থাকে আখরোট। খোলস ভেঙে ফেললে দুইখণ্ড হয়ে যায় ফলটি। সাধারণত সরাসরিই এটি খাওয়া হয়। ভেজেও খেতে পারেন আখরোট। স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এর তুলনা নেই। আখরোটে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং আয়রন থাকায় এটি অন্যতম সুপারফুডে পরিণত হয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত আখরোট খেলে নানা উপকারিতা পাওয়া যায়।  

আখরোটের পুষ্টিগুণ

আখরোট অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ বাদাম। প্রতি ১০০ গ্রাম আখরোটে ১৫.২ গ্রাম প্রোটিন, ৬৫.২ গ্রাম স্নেহ পদার্থ এবং ৬.৭ গ্রাম ফাইবার থাকে। এছাড়া ভিটামিন থাকে ২০, ক্যালসিয়াম ৯৮ মি.গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৫৮ মিগ্রা, পটাসিয়াম ৪৪১ মিগ্রা, জিংক ৩.০৯ মিগ্রা। এর প্রোটিনের মধ্যে অনেকগুলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। 

 আখরোট কেন খাবেন

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে

স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে বাদাম রাখুন খাদ্য তালিকায়। অনেকক্ষণ পর্যন্ত এটি পেট ভরা রাখতে সাহায্য করবে। এতে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছেও হবে না। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে

 

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

বেশ কিছু গবেষণা বলছে; আখরোটে থাকা পলিফেনল স্তন, প্রোস্টেট এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসারসহ কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে।

 

ডায়াবেটিসের জন্য ভালো 

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন আখরোট খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাক। টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বেশ উপকারী।  


হাড় ও দাতেঁর স্বাস্থ্য উন্নত করে 

 স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকায় আখরোট হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে।

কোলেস্টেরল কমায় 

নিয়মিত আখরোট খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে। এতে হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকে। 

 

আখরোট স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

 স্মৃতিশক্তি বাড়িতে তুলতে সাহায্য করে আখরোট। এতে থাকা ওমেগা থ্রি অবসাদ কাটাতেও সাহায্য করে। মস্তিষ্কের কোষের সজীবতা বজায় রাখতে সহযোগী হয়।  


আখরোট হৃদযন্ত্র ভালো রাখে

 আখরোটে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের জন্য উপকারী। প্রতিদিন কয়েকটি করে আখরোট খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল হ্রাস করে এবং ভালো কোলেস্টেরলের বাড়াতে সাহায্য করে।

 

আখরোট শিশুর মস্তিস্কের বিকাশ করে

 শিশুর মস্তিস্কের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে- একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে আখরোটে থাকা ভিটামিন ই, মোলাটোন, ওমেগা ৩, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে বিশেষভাবে সাহায্য করে। তাই ছোটবেলা থেকেই আপনার শিশুকে আখরোট খাওয়ানো অভ্যাস করুন।

 

আখরোট ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে

 আখরোটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে, যা সুস্থ ত্বকের জন্য বিশেষ উপযোগী। ত্বকের বলিরেখা কমাতে এবং বয়সের ছাপ দূর করতে প্রতিদিন আখরোট খাওয়া প্রয়োজন।  

আখরোট খাওয়ার নিয়ম

আখরোট খাওয়ার সাধারণত কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। যেকোন সময় যেকোনোভাবে খাওয়া যেতে পারে এটি।

তবে বিশেষজ্ঞরা আখরোট পানিতে ৫-৬ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে খাওয়ার পরামর্শ দেন। এ নিয়মে খেলে সঠিক পরিমাণে পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।

এছাড়া দুধ বা মধুর সাথে মিশিয়ে খেলেও এর পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।

অনেকে আবার তেল ছাড়া হালকা ভেজে খেয়ে থাকেন সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে।

 

যেকোনো খাবারই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। নয়তো শরীরে পুষ্টি উপাদানগুলোর ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। তাই অন্যান্য খাবারের মতোই আখরোটও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত, বেশি পরিমাণে আখরোট খেলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন-

  • অ্যালার্জি হতে পারে।
  • লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • কালো আখরোটে থাকা ফাইটেটস শরীরের আয়রন শুষে নেয়। ফলে বেশি পরিমাণে কালো আখরোট খেলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা যেতে পারে।
  • যাদের বাদামে এলার্জি থাকে তাদের আখরোটেও এলার্জির সমস্যা হতে পারে।

 

 

 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

রূপচর্চায় চন্দন