চুলের যত্নে নিমপাতা

চুলের যত্নে নিমপাতা (Neem Leavs For Hair Care)

 নিমপাতার মধ্যে অসংখ্য ভেষজ গুণ রয়েছে। নিম পাতার ব্যবহারে মানুষের শরীরের বাহ্যিক এলার্জি রোধে খুবই উপকারি। শুধু নিমপাতা নয়, এর শিকড়, ডাল-পালা এবং ছালেও রয়েছে অসংখ্য গুণ। তাই এটাকে ভেষজবিদগন মহৌষধ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। এবার শুধু নিমপাতার সামান্য উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করবো। নিম পাতা অন্যান্য অঙ্গের সাথে সাথে মানুষের মাথার চুলকে সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলে। 

এছাড়া ভেষজ নিয়মানুযায়ি চুলে নিমপাতা ব্যবহারে চুল পড়া বন্ধ হয়, ঝলমলে চুল হয় খুশকি মুক্ত। মাথার উকুন দূর করতেও এর জুড়ি নেই। নিমপাতা ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই বলে নিশ্চিৎ জানান ভেষজবিদগন। এক কথায় নিয়মিত নিমপাতা ব্যবহার করে চুলের প্রায় সব সমস্যা দূর করা যায় নিমিষেই।

চুল পড়া সমস্যায় নিম পাতা

মধু ও নিমপাতার রস মিশিয়ে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান। ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করুন। সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহারে চুল হবে ঝলমলে।

এক চা চামচ আমলকির রস, এক চা চামচ নিমপাতার রস, এক চা চামচ লেবুর রস, প্রয়োজন অনুযায়ী টকদই মিশিয়ে সপ্তাহে ২ দিন চুলে লাগিয়ে আধঘণ্টা অপেক্ষা করার পর শ্যাম্পু করুন।

 

চুল নরম ও কোমল করতে নিমপাতা

উজ্জ্বল, সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন চুল পেতে নিমপাতার ব্যবহার বেশ কার্যকর। চুলের খুশকি দূর করতে শ্যাম্পু করার সময় নিমপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে চুল ম্যাসেজ করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি দূর হয়ে যাবে। চুলের জন্য নিমপাতার ব্যবহার অদ্বিতীয়। সপ্তাহে ১ দিন নিমপাতা ভালো করে বেটে চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টার মতো রাখুন। এবার ১ ঘণ্টা পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল পড়া কমার সঙ্গে সঙ্গে চুল নরম ও কোমল হবে।

 

খুশকি তাড়াতে নিম পাতার ব্যবহার

ব্যবহারের জন্য নিম পাতা বাটার সাথে সমপরিমাণ টকদই মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্টটি মাথার ত্বকসহ চুলে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ২০-২৫ মিনিট রেখে এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতি সপ্তাহে একবার এই নিয়মে নিম পাতা ব্যবহারে উপকার পাওয়া যাবে।

 

উকুন তাড়াতে নিম পাতার ব্যবহার

উকুনের সমস্যা দূর করতে আধা কাপ নারিকেল তেলে ১৫-২০টি নিম পাতা জ্বাল দিয়ে নিম তেল তৈরি করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে নিম তেল মাথার ত্বকে ও চুলে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ঘুমিয়ে যেতে হবে এবং পরদিন সকালে চুল শ্যাম্পু করে নিতে হবে। প্রতি ২-৩ দিন পরপর এই নিয়মে নিম তেলের ব্যবহারে উকুন পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে।  


চুলের বৃদ্ধিতে নিম পাতার ব্যবহার

আধা কাপ নারিকেল তেল, এক চা চামচ মেথি, এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল এবং ১৫-২০টি নিম পাতা একসাথে জ্বাল দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। তৈরিকৃত তেলটি রাতে চুলে ম্যাসাজ করে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। সপ্তাহে দুই বার এই তেল ব্যবহারে ২ মাসের মাঝে লক্ষণীয় পরিবর্তন পাওয়া যাবে।  

 

শীতকালে ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি চুলের যত্ন নেওয়াও প্রয়োজন। এই সময়ে চুলে নানা সমস্যাই হতে পারে। খুশকির সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। পাশাপাশি চুল রুক্ষ হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত পরিমাণে চুল পড়তে থাকে।
 

নিম পাতা চুলের যত্নে ব্যবহার করুন। চুল পড়ার সমস্যাও যেমন বন্ধ হবে। খুশকির সমস্যাও আসবে নিয়ন্ত্রণে। নিম পাতার হেয়ার প্যাক বানিয়ে নিন বাড়িতে। তা নিয়মিত ব্যবহার করুন।


 

 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

রূপচর্চায় চন্দন