ড্রাই ফুডস খেলে কি হয়?

ড্রাই ফুডস খেলে কি হয়?(what happens when eating dry foods)

রক্তাল্পতার সমস্যা কমাতেও সমান ভাবে সাহায্য করে ভেজানো কিশমিশ। সারা রাত ভিজিয়ে রাখা কিশমিশ খেলে গ্যাসের সমস্যা নিরামেয়ও উপকার পাওয়া যায়। কাঠবাদাম : ভিটামিন থেকে শুরু করে ফাইবার, ফ্যাট, খনিজ- সব রকম পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই বাদাম। রক্ত চলাচল সচল এবং চোখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে প্রতিদিনের খাবারে রাখতেই পারেন কাঠবাদাম।

 শুধু নাস্তা হিসেবেই নয় বরং ড্রাই ফ্রুটস শরীরের জন্য অনেক ফলপ্রসূ। নানাভাবে শরীরের উপকার করে থাকে।

অনেক ভিটামিনের সমাহার হওয়ায় এক সাথে অনেক ভিটামিন শরীরে প্রবেশ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- ওজন কমাতে সাহায্য করে, তবে প্রয়োজনের বেশি খেলে ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রয়োজনের অধিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
- ক্ষুধা নিবারণ করে পেটকে শান্ত রাখে।
- ড্রাই ফ্রুটসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-এজিং উপাদান থাকে, যার ফলে চেহারা থাকে তারুণ্যে ভরা।
- এতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
- দাঁত, হাড় ও চোখের জন্য উপকারী।
- শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে।
- বিষণ্ণতা দূর করে মন ভালো রাখে।

ড্রাই ফুডস খাওয়ার নিয়ম

‘ড্রাই ফ্রুটস’ সরাসরি কিংবা সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন পুষ্টি উপাদানের দিক থেকে কিছুই হারাবে না। তবে দিনে সর্বোচ্চ ৩০ গ্রাম পর্যন্ত খেতে পারবেন, যা হাতের তালুতে জায়গা হয়ে যায়।  ‘ড্রাই ফ্রুটস’য়ের বিভিন্ন রকম ফল থাকে, যাদের ক্যালরির মাত্রা বিভিন্ন রকম।

বাদাম, কিশমিশম, বীজ- ‘ড্রাই ফ্রুটস’ ইত্যাদি খাওয়ার পরামর্শ দেন প্রায় সকল পুষ্টিবিদ। পরিমাণের ক্ষেত্রে তারা বলেন প্রতিদিন একমুঠ। 

 

১) সামনে শীত আসছে, এসময় খেজুর শরীরে উষ্ণতা যোগাবে, বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। তবে এখানেও পরিমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিনে মাঝারি আকারের একটি বা দুইটি খেজুরের মধ্য সীমাবদ্ধ থাকলেই তা খেকে সর্বোচ্চ উপকার মিলবে।

২) সংখ্যায় বেশি খেতে পারবেন কিশমিশ, দিনে ১০ থেকে ১২টি। কিশমিশ ‘ক্রেভিংস’ কমায়, ‘কিছু একটা খাই’ এমন পরিস্থিতি সামলাতে তাই এটি অনন্য। 

৩) নারিকেলকে ‘ড্রাই ফ্রুট’য়ে রূপান্তরিত করলে তার স্বাস্থ্যগুণ আবার বেশ কমে, চর্বির মাত্রা বেশি। নারিকেল কুচি ভাজা, নাড়ু ইত্যাদির সঙ্গে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। এগুলো দিনে একটি বা দুই টেবিল-চামচের বেশি খাওয়া যাবে না।

৪) কাঠবাদাম ১০টা পর্যন্ত খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। আবার ‘ওমেগা-থ্রি’ সমৃদ্ধ আখরোট দিনে একটার বেশি খাওয়া যাবে না। চিনাবাদাম একমুঠ পরিমাণ খেতে পারেন। পেস্তাবাদাম ছয়টা থেকে সাতটার বেশি খাওয়া যাবে না। কাজুবাদামের ক্ষেত্রে চার থেকে পাঁচটার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। বাদাম, বীজ, ‘ড্রাই ফ্রুটস’ যাই খান না কেন তা কাঁচা এবং বিনা লবণে খাওয়া সবচাইতে ভালো। 

৫) সর্বোচ্চ উপকার পেতে কিছু ‘ড্রাই ফ্রুটস’ পানি ভিজিয়ে রেখে খাওয়া উচিত। কাঠবাদাম এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে তা খেলে সর্বোচ্চ উপকার পাবেন। অপরদিকে পেস্তাবাদাম দুপুরের স্ন্যাকস হিসেবে সরাসরি খাওয়ার জন্য আদর্শ।

 

যেকোনো ‘ড্রাই ফ্রুটস’ একবারে একমুঠ পরিমাণ খেয়ে না ফেলে দিনের বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী। কিছু বাদাম সামান্য ভেজে নিলে তার স্বাদ বাড়ে। কাজুবাদাম ১৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আধাঘণ্টা ভাজলে এর ‘ফেনোলিক কম্পাউন্ড’ ও ‘ফ্লাভানয়েড’য়ের মাত্রা বাড়ে। ভেজে খেলে কুমড়ার বীজ অনেক সুস্বাদু হয়।

 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

রূপচর্চায় চন্দন