মাত্রাতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহারে সমস্যা ও সতর্কতা

 


বর্তমান যুগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন কম্পিউটার যন্ত্র ছাড়া কল্পনা করাই যায়না। যন্ত্রটির সামনে এক নাগাড়ে বসে কাজ করলে কাঁধ, কবজি,পেশী ও গাঁটের ব্যথাসহ চোখের ওপর অনেক চাপ পড়ে। আসুন জেনে নিইসমস্যাগুলো সামলানো ও এড়ানোর উপায় সম্পর্কে।

১। অধিক সময় বসে থাকার বিভিন্ন অসুবিধা 

কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে বসে থাকার কারণে পিঠের ওপর ক্রমাগত চাপ পড়ে ও দেহে রক্ত চলাচল ব্যহত হয়। এছাড়া দীর্ঘসময় কম নড়াচড়ার কারণে কম পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হয় এবং আমাদের অজান্তেই ওজন বৃদ্ধিসহ হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিসের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।  

 

অসুবিধাসমূহ দুরীকরণে করণীয়

কম্পিউটারে যাদের একটানা কাজ করার প্রয়োজন হয় উপরোক্ত সমস্যাসমূহ দূর করতে তাঁরা প্রতি এক ঘণ্টা পরপর ৫ মিনিটের জন্য বিশ্রাম নিতে পারেন। এই বিরতির সময়ে কিছুটা হাঁটাহাটি ও স্ট্রেচ ব্যায়াম করে নিতে পারেন। এছাড়া সারাদিনের কাজের মধ্যে একটানা না বসে কিছু সময়ে সোজা দাঁড়িয়েও কাজ করা যেতে পারে।  

২। একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষতিসমূহ

একদৃষ্টিতে দীর্ঘক্ষন ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। এরফলে চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া সহ চোখের অস্বস্তি, চোখ জ্বালা,মাথাযন্ত্রনা হতে পারে।  কম্পিউটারে অনেকক্ষণ ধরে কাজ করলে চোখ জ্বলে। মনিটরের সামনে বসে কাজ করতে বেশ অসুবিধা হয়। অনেকে ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত হন। দৃষ্টি আচ্ছন্ন ও ঘোলা হয়ে আসে, এক বস্তুকে দুটি দেখায় (ডাবল ভিশন), চোখ শুকিয়ে যায়, লাল হয়ে ওঠে, চুলকায়। কম্পিউটারের পর্দায় লেখাগুলো পিক্সেলে সজ্জিত, এর কিনারগুলো ঝাপসা। তাই পড়ার সময় চোখে চাপও পড়ে।

অসুবিধাসমূহ দুরীকরণে করণীয়

 অফিস বা বাসার কম্পিউটারের কক্ষে যথাযথ আলোর ব্যবস্থা রাখাসহ কম্পিউটার স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এজন্য ‘২০-২০-২০’ নিয়মটি মেনে চলুন। এটি হলো, কম্পিউটারে কাজ করার সময় ২০ মিনিট পরপর ২০ সেকেন্ডের বিশ্রাম নিন ও ২০ ফুট দূরের দৃশ্যে চোখ রাখুন।

৩। খারাপ দেহভঙ্গিমার কারণে শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা

এমনিতে দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে থাকাটা শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তারপরে যদি  সেই বসাটা সঠিকভাবে না হয় তাহলে সেটি হয় আরও মারাত্মক। কম্পিউটারের সামনে সঠিকভাবে  সোজা হয়ে না বসে কাজ করবার পরিণতি হল, পিঠে ও কবজি সহ কাঁধ ও ঘাড়ে ব্যথার ভয়াবহ শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই কারণে অনেকসময় প্রচণ্ড মাথাব্যথাও হয়। এছাড়া টাইপ করার সময় আঙুলের উপরেও অত্যধিক চাপ পড়ার কারণে ব্যাথা সহ পেশী আঁটসাঁট বা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে যা দৈনন্দিন কাজকর্মকে প্রভাবিত করতে পারে।

অসুবিধাসমূহ দুরীকরণে করণীয়

উপরোক্ত সমস্যাসমূহ দূর করতে স্ট্রেচ ব্যায়াম করা যেতে পারে। এছাড়া ডেক্সটপ মনিটর এমনভাবে রাখতে হবে যাতে  বসতে স্বাচ্ছন্দ অনুভব হয়, অর্থাৎ, কম্পিউটারের  মনিটরের উপরের অংশ চোখের সমান-সমান রাখতে হবে । ডিসপ্লে মুখের থেকে সামান্য কোণাকুণি পেছনের দিকে একহাত দূরত্বে রাখতে হবে। পিঠের যথাযথ ভার নিতে পারে এমন চেয়ারে সঠিকভাবে  পেছনে হেলান দিয়ে বসে কাজ করতে হবে। কবজিকে রক্ষা করার জন্য মাউস প্যাড ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া হাত ও আঙুলকে নিয়মিত বিশ্রাম দিতে হবে। ব্যথা হলে তা উপসমের জন্য ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করা যেতে পারে।

 

বিশ্বের প্রায় সাত কোটি কর্মী কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমের ঝুঁকিতে রয়েছেন আর সংখ্যাটা দিন দিন বাড়ছেই। দিনে মাত্র তিন ঘণ্টা কম্পিউটার ব্যবহার করলেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁরা আরও বেশি সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তাঁদের টানা মাথাব্যথা, ঘাড় ও পিঠে ব্যথাও হয়। তাই একটানা কম্পিউটারের দিকে না তাকিয়ে কাজ করে মাঝে মধ্যে ব্রেক নেওয়া জরুরী। নিয়ম মানুন ও সুস্থ থাকুন।


 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

রূপচর্চায় চন্দন