মুখে ঘা হলে করণীয়

মুখে ঘা হলে  করণীয়

মুখে আলসার বা ঘা এক ধরনের ক্ষত, যা সাধারণত ব্যথাযুক্ত হয়ে থাকে। এই ঘা মুখের মাড়ি, ঠোঁট, জিহ্বা, গালের ভেতরের অংশ ও তালুতে হয়ে থাকে। সাধারণত আঘাতের কারণে (যেমন ভাঙা দাঁত বা গোড়া), হরমোনাল পরিবর্তন বা মানসিক চাপ থেকে হয়ে থাকে। এই ঘাগুলো সাধারণত এমনিতে চলে যায় বা কোনো কোনো সময় চিকিৎসা লাগে।


মুখের ভেতরে ঘা হলে তা সারতে খানিক সময় লাগে। কারণ মুখের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘা হওয়া জায়গাটিকে সারিয়ে তুলতে বাধা দেয়। ফলে কখনো তা সারতে সপ্তাহ বা মাসও লেগে যেতে পারে।
 
আর যতক্ষণ না ঘা সারছে, ততক্ষণ শুকনো হোক বা তরল, কোনো কিছু খাওয়াই দুরূহ হয়ে ওঠে। তাই ঘা সারাতে হলে সবচেয়ে প্রথমে মুখের ভেতরের অংশ ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবমুক্ত করতে হবে।

বেশির ভাগ সময়ে ঘাগুলোতে ব্যথা হওয়ার কারণে কথা বলতে, খাওয়া দাওয়া করতে বা পানি পান করার সময় সমস্যা হয়। কোনো কোনো সময় মুখে আলসার ভাইরাসজনিত কারণ বা অটো ইমিউন ডিজিজ, যা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাজনিত কারণে হয়ে থাকে।

সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে অ্যাপথাস আলসার। এ ছাড়া দেখা যায়, ওরাল লাইকেন প্ল্যানাস, লিউকোপ্লাকিয়া, ইরাইথ্রোপ্লাকিয়া, ওরাল থ্রাস ও মুখের ক্যান্সার।


কারণগুলো

* দাঁতের যেকোনো ধরনের ট্রিটমেন্ট করার সময় ওরাল টিস্যুতে আঘাতজনিত কারণে হতে পারে।

* অসাবধানতায় মুখের গালে বা জিহ্বায় কামড় লাগার কারণে হতে পারে।

* এলার্জির কারণে হতে পারে।

* অর্থোডোনটিক্স ব্রেসেস বা রিটেইনারের কারণে আঘাত লাগতে পারে।

* টুথপেস্টে এবরেসিভ উপাদান বেশি থাকলে সেখান থেকে মুখে ঘা হতে পারে।

* এসিডিক খাবার যেমন—কমলা, আপেল ও স্ট্রবেরি জাতীয় ফল বেশি খেলে হতে পারে।

* মানসিক চাপের কারণেও হতে পারে।

* অনেক সময় ঘুম কম হলেও হতে পারে।


উপসর্গ

* ক্ষতস্থান হলুদ, সাদা বা ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে।

* ক্ষতের চারপাশে ফুলে যেতে পারে।

* দাঁত ব্রাশ করার সময় ব্যথা হতে পারে।

* ঝাল, লবণাক্ত খাবার, টকজাতীয় খাবার খাওয়ার সময় ব্যথা বেশি অনুভব হতে পারে।


মুখের ঘা থেকে সাবধান থাকবেন যেভাবে:
 
১. মুখে আঘাতের বিষয়ে সাবধানে থাকবেন। দাঁত ব্রাশের সময় সতর্ক থাকবেন। দাঁত আঁকাবাঁকা থাকলে সেটার চিকিৎসা করান।
২. এ সমস্যা রোধের জন্য পরিমিত খাবার, ঘুম, মানসিকভাবে চাঙা থাকার চেষ্টা করবেন।

করণীয়

* প্রচুর পরিমাণ পানি খেতে হবে (৮ গ্লাস সর্বনিম্ন)।

* মুখ ও দাঁতের সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে।

* প্রতিদিন লবণ গরম পানি দিয়ে কিছু সময় ঘরে কুলকুচি করতে হবে।

* সমপরিমাণ পানির সঙ্গে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের সঙ্গে পানি মিশিয়ে কুলকুচি করা যেতে পারে।

* গরম, ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার বর্জন করতে হবে।

* এনেসথেটিক্স জেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

 
যষ্টিমধু: যষ্টিমধু মুখের ঘা দূর করতে বেশ কার্যকরী একটি উপাদান। এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দুই কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এটি দিয়ে কয়েকবার কুলি করুন। উপকার পাবেন।
 
অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা জেল বা অ্যালোভেরার রস মুখের ঘা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক, যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফিংগাল, অ্যান্টিভাইরাল উপাদান ক্ষত কমিয়ে দিতে পারে।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

রূপচর্চায় চন্দন