গাজরের জুসের উপকারিতা

গাজরের জুসের উপকারিতা

শীতে সকলের প্রিয় সবজির তালিকায় গাজরের নাম থাকবেই। দেখতেও যেমন সুন্দর খেতেও তেমনি সুস্বাদু। সকালের নাস্তায় সবজি থেকে শুরু করে সালাদ, সুপ, তরকারিতে ব্যবহৃত তো হয়ই শেষ পাতের মিষ্টিমুখেও গাজরের হালুয়ার কদর সর্বত্র। শুধু স্বাদ নয় গাজর যত্ন নেয় স্বাস্থ্যের। 

শরীরে ভিটামিন পৌঁছে দেয়

গাজর ভিটামিন এ এর অন্যতম উৎস। এতে থাকে বিটা ক্যারোটিন। যা আমাদের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি চোখের অন্যান্য সমস্যাও কমিয়ে আনে। গাজরের জুসের পাশাপাশি কাঁচা গাজরও খেতে পারেন। অনেকের ক্ষেত্রে কাঁচা সবজি ঠিকভাবে হজম হয় না। তারা সামান্য ভাপিয়ে নিয়ে খেতে পারেন।

চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ক্যানসার প্রতিরোধে গাজরের ভূমিকা অনন্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজর থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে হলে, কাঁচা গাজর খাওয়াই সর্বোত্তম। সেক্ষেত্রে খেতে পারেন গাজরের রস। চলুন জেনে নেই সকালে এক গ্লাস গাজরের রস পানের উপকারিতা:  


মস্তিষ্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি
গাজরের বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন মস্তিষ্কের সক্ষমতা বাড়িয়ে আপনাকে চৌকস করে তুলতে সাহায্য করবে। এছাড়া মানসিক চাপ দূর করে মনে প্রশান্তি এনে দিতেও অসাধারণ কাজ করে।


হার্টের সুরক্ষায়
হার্টকে সুস্থ রাখতে শারীরিকভাবে কর্মক্ষম রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চাপ মুক্ত থাকাটা বেশ জরুরি। গাজর ডায়েটরি ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ থাকে। এই উপাদানগুলো ধমনির ওপর কোনো কিছুর আস্তরণ জমতে না দিয়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। সুস্থ থাকে হার্ট।

কোলেস্টেরল এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ
কোলেস্টেরল এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গাজরের জুস অনেক উপকারী। গাজরের মধ্যে থাকা পটাশিয়ামই এর মূল কারণ। গাজরে ক্যালোরি এবং সুগারের উপাদান খুবই কম। এ ছাড়া ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। গাজর খেলে ফ্যাট বার্ন হয় সহজেই। ফলে ওজন কমে। তাই শরীর চর্চার পর বা সকালে হাঁটার পর এই জুস খেলে কার্যকারী উপকার পাওয়া যাবে।


ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক

খাবার হজমের পর কিছু উচ্ছিষ্ট থেকে যায় আমাদের শরাীরে। একে বলা হয় ফ্রি র‍্যাডিকেলস বা মৌল। আমাদের শরীরের কিছু কোষ নষ্ট করে এই ফ্রি র‍্যাডিকেলস। এ ধরনের মৌলের বিরুদ্ধে লড়াই করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার। ফলে শরীরে ক্যানসারের কোষ উৎপাদন কম হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে ৩৩ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’, ৯ শতাংশ ভিটামিন ‘সি’ এবং ৫ শতাংশ ভিটামিন ‘বি-৬’ পাওয়া যায়। এসব ভিটামিন এক হয়ে লড়াই করে ফ্রি র‍্যাডিকেলসের বিরুদ্ধে।


গর্ভাবস্থায় খুব উপকারী
গর্ভাবস্থায় মায়েদের ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন এ, এবং ভিটামিন সি এর চাহিদা বেড়ে যায়। গাজর এই সবগুলো উপাদানে ভরপুর।

উজ্জ্বল ত্বক
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়ামের মতো খনিজের উপস্থিতি আছে গাজরে। এই উপাদানগুলো ত্বককে সতেজ রাখে, সেই সঙ্গে ত্বকে দাগ পড়া থেকে রক্ষা করে।

হজমশক্তি বাড়ায়
গাজর আমাদের দেহের টক্সিন দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী একটি খাদ্য। সেই সাথে এটি আমাদের পরিপাক ক্রিয়া উন্নত করতেও সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে ১ গ্লাস গাজরের জুস আমাদের হজমশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

গাজরের জুস বানানোর নিয়ম

পদ্ধতি:

 প্রথমে একটা ব্লেন্ডারের জগে বরফ বাদে সব উপকরণ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তারপর ঢাকনা খুলে বরফের টুকরা দিয়ে আবার ব্লেন্ড করতে হবে। ব্লেন্ড করা হলে ছেঁকে নিয়ে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন। ইফতারের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর এই পানীয়।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

রূপচর্চায় চন্দন