খেজুর ও শসা একসাথে খেলে স্বাস্থ্য বাড়ে, কতটুকু সত্য?


 অতিরিক্ত কম ওজন শুধু শারীরিক সৌন্দর্যকেই ম্লান করে দেয় না। কখনো এটি রোগেরও কারণ হয়। কম ওজনের কারণে অপুষ্টিজনিত রোগ দেখা দিতে পারে শরীরে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়তে পারে। তাই একদিকে সুঠাম দেহ পেতে এবং অন্যদিকে সুস্থ থাকতে প্রয়োজনীয় ওজন বাড়ানো জরুরি।

ওজন কমানো যত সহজ— ওজন বাড়ানো কিন্তু ততটা সহজ নয়। তবে হাদিসে উল্লেখিত একটি খাবার বা আমলের কথা আমরা উল্লেখ করব। এটি করলে আশা করা যায়— আল্লাহ তাআলা সুস্বাস্থ্য ও সুঠাম দেহ দান করবেন।

 আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমার মা আমাকে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সংসারে পাঠাতে চাচ্ছিলেন, তাই আমার দৈহিক পরিপুষ্টির জন্য চিকিৎসা করাতেন। কিন্তু তা কোনো উপকারে এলো না। অবশেষে আমি তাজা খেজুরের সাথে শসা মিশিয়ে খেলাম এবং উত্তমরুপে দৈহিক পরিপুষ্টি লাভ করলাম।’ (আবু দাউদ,হাদিস : ৩৩২৪)

কারও প্রশ্ন হতে পারে— চিকিৎসকরা তো স্বাস্থ্য কমাতে শসা খাওয়ার নির্দেশ দেয়? এর উত্তর হলো- হাদিসে খেজুর আর শসা একসঙ্গে খাওয়ার কথা এসেছে। এটা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সুন্নতও বটে। আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (রা.) বর্ণনা করেন যে,  নবী (সা.) খেজুরের সঙ্গে একত্রে শসা খেতেন। (সহিহ ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩২৫)

খেজুর :

একটি অসাধারণ ফল। পুষ্টিগুনে ভরপুর এই ফল হোক প্রতিদিনের ইফতারের সঙ্গী। জেনে নিন খেজুরের উপকারিতা।

– ডেক্সট্রোজ এবং ফ্রুক্টোজ হল খেজুরের দুই শর্করা। যা অতি দ্রুত আপনাকে শক্তি দেয়।

– সারাদিনের অভুক্ত পাকস্থলী কে তৈরী করে খাবার গ্রহণর জন্য।

এতে কোনো ফ্যাট নেই। শুধু তাই নয়, খেজুর ক্ষতিকর কোলেস্টেরল পরিশোষণ করতেও বাধা দেয়।- এতে আছে পটাশিয়াম, কপার, আয়রন, সোডিয়াম ইত্যাদি। যা শরীরের লবণ ঠিক রাখে, রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।

– রোজায় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের জন্য কোষ্টকাঠিন্য হতে পারে, খেজুর এর থেকে মুক্তি দেয়।

– খেজুরের আছে অ্যান্টিক্যানসার ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি গুন।

– গর্ভাবস্থায় খেজুর খাওয়া খুবই ভালো।

শসা :

শসায় থাকে প্রচুর পানি। প্রায় শতকরা ৯৬ ভাগ পানিসমৃদ্ধ ১টি শসা আপনাকে দুই গ্লাস সমান পানি সরবরাহ করবে।

– শসায় থাকে প্রচুর ভিটামিন- এ, বি, সি এবং কে। আরও আছে মিনারেল-ম্যাংগানিজ, পটাসিয়াম, কপার, মলিবডেনাম। শসার এই ভিটামিন আর ম্যাংগানিজ কাজ করে কার্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে।

– শরীরের বিভিন্ন প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে

– যদিও এখনও গবেষণা পর্যায়ে আছে তাও বিজ্ঞানীরা প্রায় নিশ্চিত যে শসা ব্রেস্ট, ইউটারাস, প্রোস্টেইট, ওভারিয়ান ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।- হজমে সাহায্য করে।

 

 

 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

রূপচর্চায় চন্দন